বাংলাদেশ প্রতিদিনের আজীবন সম্মাননায় কবরী

দশম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে ২০১৯ সালে পাঁচ গুণী ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান করে বাংলাদেশ প্রতিদিন। গুণী ব্যক্তিদের মধ্যে চলচ্চিত্র অভিনেত্রী হিসেবে সম্মাননা গ্রহণ করেন অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরী।

এই সম্মাননা গ্রহণের দিন কবরী দীর্ঘ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ প্রতিদিন পরিবারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক সবসময় গভীর ছিল।

Source: Bangladesh-Pratidin

আবাসনে বসুন্ধরার বিপ্লব

চার দশক আগেই বুঝতে পেরেছিলেন, ঢাকার ওপর মানুষের চাপ বাড়বে। মানুষের চাপ বাড়লেই আবাসন সংকট তৈরি হবে। এই দূরদৃষ্টিই এগিয়ে দিয়েছিল সেই সময়ের তরুণ উদ্যোক্তা আহমেদ আকবর সোবহানকে। দেশের মানুষের চাহিদা পূরণে ১৯৮৭ সালে তাই শুরু করেন আবাসন ব্যবসা। অবহেলিত জনপদে দেশের সর্ববৃহৎ ও অভিজাত আবাসন এলাকা গড়ে তুলে তিনি কৃষকদের কোটিপতি বানিয়েছেন। প্রগতি সরণি থেকে শুরু করে পূর্বদিকে বালু নদী পর্যন্ত পতিত জমিই হয়ে ওঠে সোনা। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ইস্ট ওয়েস্ট প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট (প্রা.) লিমিটেড দিয়ে শুরু করে তিনি আবাসন খাতেই গড়ে তোলেন আমদানি বিকল্প শিল্প। একে একে ৬০টির বেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালু করে বসুন্ধরাকে প্রতিষ্ঠা করেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী গ্রুপ হিসেবে। তাঁর সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে আবাসন ব্যবসায় এলেন আরো অনেকে। গুণগত, মানসম্পন্ন নির্মাণসামগ্রী উৎপাদন ও সংযোগ শিল্পের বিকাশে এই খাতে যোগ্য নেতৃত্ব দিয়ে দেশের আবাসন খাতকে শিল্পে রূপান্তরের নিপুণ কারিগর তিনি। আহমেদ আকবর সোবহানের হাত ধরে নতুন এক আবাসন বিপ্লবের সূচনা হয়। 

আহমেদ আকবর সোবহানের জন্ম ১৯৫২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি পুরান ঢাকার ইসলামপুরের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে। তাঁর বাবা আবদুস সোবহান ছিলেন আইনজীবী এবং মা উম্মে কুলসুম ছিলেন গৃহিণী। দুই ভাই ও চার বোনের মধ্যে আহমেদ আকবর সোবহান সবার ছোট।

১৯৭৮ সালে আহমেদ আকবর সোবহান অভ্যন্তরীণ সেবা খাতে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ব্যাবসায়িক যাত্রা শুরু করেন। বসুন্ধরা গ্রুপের পথচলা শুরু হয় ইস্ট ওয়েস্ট প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট (প্রা.) লিমিটেড প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে। গুণগত মান এবং সর্বোচ্চ সেবার নিশ্চয়তা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি হয়ে উঠেছে ভোক্তাদের আস্থার অন্য নাম। এগিয়ে যাওয়ার পথ সুগম ছিল না কখনোই। কিন্তু আহমেদ আকবর সোবহান কখনো নিজ নীতি থেকে বিচ্যুত হননি। অটল থেকেছেন নিজের লক্ষ্যে। সততা, নিষ্ঠা, ধৈর্য ও নিরলস প্রচেষ্টায় নিজ হাতে তিনি বসুন্ধরা গ্রুপকে নিয়ে এসেছেন আজকের এই বিশাল ব্যাপ্তি ও বিরাট অবস্থানে। ইস্পাত ও প্রকৌশল, কাগজ, টিস্যু, সিমেন্ট, এলপি গ্যাস, স্যানিটারি ন্যাপকিন, কাগজজাত পণ্য, ড্রেজিং, জাহাজশিল্প, খাদ্য ও পানীয়, বিটুমিন, অয়েল অ্যান্ড গ্যাস, আইসিটি, যোগাযোগ ও পরিবহন, গৃহায়ণ ও নির্মাণ, প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিশিং, ক্রীড়া, বিনোদন, হাসপাতাল, ফাউন্ডেশনসহ ৬০টির বেশি নানা মাত্রার বৃহৎ শিল্প খাতে নিজেদের ব্যবসার বিস্তার ঘটিয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপ। সারা দেশের মানুষের চাহিদা পূরণ করে প্রতিষ্ঠানটি ছড়িয়ে পড়েছে গোটা বিশ্বে। আহমেদ আকবর সোবহানের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ও বিচক্ষণ তদারকিতে বসুন্ধরা গ্রুপ অবকাঠামোগতভাবে অর্জন করেছে যথেষ্ট দক্ষতা এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে সফলতার সঙ্গে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের যোগ্যতা লাভ করেছে। বসুন্ধরা গ্রুপের শিল্প উদ্যোগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের নানা পণ্যে আমদানিনির্ভরতা কমেছে। অর্থনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব রাখতে সক্ষম হয়েছে এই গ্রুপ।

বসুন্ধরা গ্রুপ শুধু ব্যাবসায়িক খাতই নয়, তৈরি করেছে বিরাট কর্মক্ষেত্রও। এই গ্রুপের নানা প্রতিষ্ঠানে সরাসরি কর্মরত আছেন ৬০ হাজার কর্মী। এ ছাড়া নানাভাবে বসুন্ধরা গ্রুপে কাজ করছেন পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ। রাজস্ব খাতে বিরাট অবদানের মাধ্যমে দেশীয় আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও দারুণ অবদান রাখছে বসুন্ধরা। বহু বছর ধরেই দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজস্বদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুনাম ধরে রেখেছে বসুন্ধরা গ্রুপ।

ঢাকায় নিজের একটি বাড়ি গড়ার স্বপ্ন দেখায় বসুন্ধরা। তখন প্লট কিনে বাড়ি করার ধারণাটি ছিল নতুন। কথাটা তখন তেমন কেউ বিশ্বাস করতেন না। ধারণা নতুন হলেও আহমেদ আকবর সোবহানের বিশ্বাস ছিল, যদি আস্থা অর্জন করা যায়, তাহলে মানুষ বসুন্ধরার জমি লুফে নেবে। হয়েছেও তাই। বারিধারা কূটনৈতিক জোনের খুব কাছেই এ, বি, সি ও ডি—এই চারটি ব্লক নিয়ে বসুন্ধরা যাত্রা শুরু করে ১৫ হাজার একর জমিতে বিস্তৃত হয়েছে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা। নিজের একটি বাড়ি হবে এমন স্বপ্ন যাঁরা দেখতেন, তাঁরা তাঁদের সাধ্যের মধ্যে বসুন্ধরায় প্লট কেনা শুরু করলেন। দীর্ঘমেয়াদি কিস্তি সুবিধা ও সময়মতো প্লট বুঝিয়ে দিয়ে পরিকল্পিত আবাসন নির্মাণে বিশ্বস্ততা অর্জন করে বসুন্ধরা গ্রুপ। সেই বিশ্বাসেই বসুন্ধরা গ্রুপ এত দূর এসেছে বলে জানালেন বিশিষ্ট এই শিল্পপতি। তিনি বলেন, ‘বসুন্ধরা গ্রুপ এই এলাকার লক্ষাধিক কৃষককে কোটি টাকার মালিক বানিয়েছে। এই এলাকায় যাঁদের সামান্য জমি ছিল তাঁরা আজ বাড়ি-গাড়ির মালিক হয়েছেন। একইভাবে বসুন্ধরা গ্রুপ অন্য প্রকল্পগুলোর মাধ্যমেও মানুষের ভাগ্য বদলে দিয়েছে। বসুন্ধরা এখন পরিকল্পিত ও আধুনিক সুবিধাসংবলিত মনোমুগ্ধকর আবাসিক এলাকা। এখানে সুধীজনের বসবাস। আজকে বসুন্ধরা শুধু বাংলাদেশই নয়, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ একটি আবাসিক এলাকা।’

বেশির ভাগ আবাসন কম্পানি সাধারণত প্লট বিক্রি করেই দায়িত্ব শেষ করে। তাদের বেশি কোনো পরিকল্পনা থাকে না। বসুন্ধরা গ্রুপ শুরু থেকেই এ ক্ষেত্রে ভিন্ন। সবুজ বনায়নে জোর দিয়ে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা হয়ে ওঠে কোলাহলমুক্ত শান্তিপূর্ণ এলাকা। এই এলাকায় আছে দেশের ব্যস্ততম করপোরেট প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ব্যাংক, কনভেনশন সেন্টার, সুপারশপ, রেস্টুরেন্ট, জিম, বাণিজ্যিক স্থাপনা, খেলার মাঠ ইত্যাদি। শুধু তাই নয়, একমাত্র বসুন্ধরায়ই আছে দেশের আন্তর্জাতিক মানের চারটি বিশাল কনভেনশন সিটি। ১৯৯৮ সালে যখন আবাসন ব্যবসা তুঙ্গে তখন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান প্রথম ১৫ বিঘা জমির ওপর গড়ে তোলেন দেশের সর্ববৃহৎ বসুন্ধরা শপিং মল।

সুবিশাল বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা শতভাগ নিরাপদ। নিজস্ব প্রায় দুই হাজার নিরাপত্তাকর্মী সার্বক্ষণিক কাজ করছেন। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থার জন্য রয়েছে সিসিটিভি ও সিকিউরিটি হেল্প লাইন, নিজস্ব পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ আরো অনেক কিছু।

বসুন্ধরার বারিধারা প্রকল্পের সাফল্যের পরপরই দেশের আবাসিক সমস্যার কথা বিবেচনা করে বেশ কয়েকটি প্রকল্প হাতে নেন আহমেদ আকবর সোবহান। পুরান ঢাকার মানুষকে আবাসন সুবিধা প্রদানের জন্য কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদে রিভারভিউ নামের প্রকল্প, গাজীপুরের মৌচাক ও স্কাউট জাম্বুরির কাছে আছে মৌচাক হাউজিং প্রকল্প। ঢাকা-মাওয়া হাইওয়ের পাশে আছে রিভারভিউ গ্রিন টাউন ও বসুন্ধরা দক্ষিণ প্রকল্প। আগামীর ঢাকা অর্থাৎ ঢাকার সবচেয়ে বেশি সম্প্রসারিত জোন পূর্বাঞ্চলে ছোট-বড় বেশ কয়েকটি আবাসন প্রকল্প হাতে নিয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপ। এতে রাজধানী ঢাকার আবাসন সমস্যা দ্রুতই লাঘব হবে বলে আশা করছেন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান।

বাংলাদেশে রিয়েল এস্টেট ব্যবসার ধারণা প্রথম আসে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের মাধ্যমে। জহিরুল ইসলামের এই উদ্যোগের পর সত্তরের দশকে এই খাতে পাঁচটির মতো কম্পানি যুক্ত হয়। বসুন্ধরার মাধ্যমে এই শিল্পের ব্যাপক বিকাশের পর তাদের অনুসরণ করে এগিয়ে আসে আরো অনেক গ্রুপ।

আহমেদ আকবর সোবহান বলেন, ‘বসুন্ধরা গ্রুপ শুধু নিজের নয়, দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। আমরা প্রথম সিমেন্ট কম্পানি করেছিলাম, এর পরে ৯৭টি কম্পানি হয়েছে। মানুষের আস্থা বসুন্ধরা সিমেন্ট এবং বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতি অবিচল রয়েছে। দেশের সব বড় অবকাঠামোয় বসুন্ধরা গ্রুপের সিমেন্ট ব্যবহৃত হচ্ছে। মানের বিষয়ে আমরা কখনো আপস করিনি, শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েছি। এভাবে অনেক ব্যবসাতেই বসুন্ধরা প্রথম পা রেখেছে, এরপর বসুন্ধরার সাফল্যে অন্যরাও সেই ব্যবসায় এসেছে।’

আহমেদ আকবর সোবহান আরো বলেন, ‘আমাদের এই সফলতার পেছনে ব্যাংকারদের বড় ভূমিকা রয়েছে। আমার প্রতি ব্যাংকারদের যে আস্থা, আশা করি ভবিষ্যতেও তা থাকবে। ব্যাংকারদের ভালো ব্যবসায়ীদের খুঁজে ঋণ দিতে হবে। বসুন্ধরা গ্রুপ কখনো ব্যাংকে ডিফল্টার হয়নি।’

নিজের সাফল্যের কারণ ব্যাখ্যা করে এই উদ্যোক্তা বলেন, “আমার বিষয়ে বলা হয়, আমি সব ব্যবসাতেই সফল হই। এর মূল কৃতিত্ব বসুন্ধরা গ্রুপের সব কর্মীর। তাঁরা সবাই প্রতিষ্ঠানটিকে নিজের মনে করে কাজ করেন। সবাই মনে করেন যে প্রতিষ্ঠান ‘আমাদের’। আমাদের সব সফলতার মূল এই কর্মী বাহিনী।”

নিজেও একজন ক্রীড়া অনুরাগী বসুন্ধরা গ্রুপের অধিকর্তা। আহমেদ আকবর সোবহান নিজে একসময় হকি খেলতেন এবং তাঁর বড় ভাই আবদুস সাদেক একজন হকি কিংবদন্তি। শুধু হকি নয়; ক্রিকেট, ফুটবল থেকে শুরু করে অনেক খেলাকেই দীর্ঘদিন ধরে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে আসছে দেশের অন্যতম এই বৃহৎ ব্যবসায়ী গ্রুপ। ফুটবলে আছে নিজেদের দল বসুন্ধরা কিংস। এই গ্রুপ আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র এবং শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবকে। ক্রিকেটে তারা বিপিএলের দল রংপুর রাইডার্সের মালিক। এর বাইরে গলফ, কাবাডি, হকিসহ বিভিন্ন খেলায় নিয়মিতই পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে বসুন্ধরা গ্রুপ। এবার তারা সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যায়ে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় গড়ে তুলছে আধুনিক স্পোর্টস কমপ্লেক্স।

আহমেদ আকবর সোবহান বলেন, “আমরা একটা স্পোর্টস কমপ্লেক্স করছি। একটা ক্রিকেট একাডেমি করব, এর নাম দেব শেখ রাসেল ক্রিকেট একাডেমি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটা কথা প্রায়ই বলেন, ‘দেশের প্রতিটা শিশুকে দেখলে শেখ রাসেলের স্মৃতি ভেসে ওঠে।’ এই যে একটা অন্তর্দহন, এটা শুধু তিনিই বোঝেন। এটা আর কেউ বুঝবে না।”

বসুন্ধরা গ্রুপের বিশাল ব্যাবসায়িক সাম্রাজ্যের হাল ধরেছে নতুন প্রজন্ম। পুরো ব্যবসাকে বিভিন্ন সেক্টরে বিন্যস্ত করে ভবিষ্যৎ রূপরেখাও দিয়েছেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান। তাঁর মূল্যবান দিকনির্দেশনায় তাঁর সুযোগ্য চার সন্তান সাদাত সোবহান, সাফিয়াত সোবহান, সায়েম সোবহান আনভীর ও সাফওয়ান সোবহান বসুন্ধরা গ্রুপকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। সায়েম সোবহান আনভীর পালন করছেন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব। সাদাত সোবহান কো-চেয়ারম্যান, সাফিয়াত সোবহান এবং সাফওয়ান সোবহান ভাইস চেয়ারম্যান।

শুধু ব্যাবসায়িক অঙ্গনেই নয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সামাজিক দায়িত্ব পালনেও দৃষ্টান্ত রেখেছেন আহমেদ আকবর সোবহান। সাফল্যের শীর্ষে অবস্থান করেও ভুলে যাননি দেশীয় সংস্কৃতি ও মানবতার কল্যাণে ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ। দরিদ্র ও অবহেলিত মানুষের কথাও মনে রেখেছেন সব সময়। উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছেন নিত্যদিন। বসুন্ধরা গ্রুপ প্রতিষ্ঠিত দুটি মানবকল্যাণ ফাউন্ডেশন ভাগ্যবিড়ম্বিত মানুষের জীবনচলার পথ সুগম করতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে চলেছে প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্ত। এ ছাড়া নানা সময়ে বিপদগ্রস্ত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বহু নজির রেখেছেন আহমেদ আকবর সোবহান।

বসুন্ধরা গ্রুপ গড়ে তুলেছে দেশের সর্ববৃহৎ মিডিয়া গ্রুপ। ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপে আছে কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ডেইলি সান, বাংলানিউজ টুয়েন্টিফোরডটকম, নিউজ ২৪, রেডিও ক্যাপিটাল এবং টি স্পোর্টস। বসুন্ধরা গ্রুপ সব সময় দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করছে উল্লেখ করে চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমার স্বপ্ন বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের উদ্দেশ্য নিয়েই আমাদের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া শুরু করেছি। আমাদের মিডিয়া হাউস আজ শুধু বাংলাদেশেই নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম।’

যদিও এখন বহুক্ষেত্রে বিস্তৃত বসুন্ধরার সীমানা, কিন্তু সব কিছুর শুরু আবাসন দিয়েই। সেখানে বিপ্লব ঘটিয়ে বসুন্ধরা যেমন দেশের মানুষকে দিয়েছে নিরাপদ আশ্রয়ের ঠিকানা, তেমনি বিপুল কর্মসংস্থানে সমৃদ্ধ করেছে দেশের অর্থনীতি। আবাসনে বসুন্ধরার এই বিপ্লব তাই পুরো দেশের জন্যই এক আশীর্বাদ।

source:  কালের কণ্ঠ

Glimpses of Bashundhara Group’s humanitarian activities

Bashundhara Group has set a rare example in providing humanitarian service to the needy by upholding business ethics.

The country’s largest conglomerate has shown its excellence by extending support to the underprivileged as well as differently- abled people by following the motto–‘For the country, for the people’.

Bashundhara Group Chairman Ahmed Akbar Sobhan, as part of his company’s corporate social responsibility, has been contributing towards national development as well as doing welfare-oriented activities for common people by undertaking different initiatives.
Bashundhara Eye Hospital and Bashundhara-Ad Din Medical College Hospital, two major hospitals of the group, are already providing quality healthcare service to people from all walks of life at an affordable cost. To make healthcare more affordable, the company has planned to establish three more hospitals.

To impart religious education to underprivileged children, the BG chairman has set up madrassa. Besides, the country’s largest mosque is now under construction at Bashundhara Residential Area.

During natural calamities, the company always stood beside people with relief and cash support for their survival. Since the outbreak of coronavirus, Bashundhara Group stood beside underprivileged and unemployed people.

Hearing people’s problems through media or other means, the management of the company always stood beside them. Many children have been enlightened and many people got back their eyesight wiith the help of the company.

The company also provides ‘interest free’ credit under Bashundhara Foundation in a bid to save people from loan sharks.

Many people including underprivileged women get livelihood support from Bashundhara Group chairman Ahmed Akbar Sobha. BG is also engaged in donating house, shop and cattle to the poor.

Another milestone of the company is Bashundhara Special Children Foundation (BSCF) which works for welfare of differently-abled children. The specialised school located under Bashundhara Riverview Project in Keraniganj imparts quality service on charity for physical and neuron development of underprivileged kids.

Alongside education, children with special needs get different life skills training much to the relief of their parents. Being patronized by Bashundhara Group chairman Ahmed Akbar Sobhan, the BSCF is being led by the director of the company, Yeasha Sobhan..

While leading the Foundation as its chairperson, Yeasha has proved that differently-abled children can be developed as a social resource by providing special care to them. She showed her love for children by organising ‘winter camp’ for special children at her residence.

The BSCF has begun its journey on March 1, 2017 for schooling for autistic kids. However, the charitable organisation has covered all children with special needs in past three and a half years.

There are well-decorated classrooms, century Integration Park and wide play ground in the school. The school only allows special children from poor families. Students get bag, books, school dress, water bottle, tiffin box and related stationary at free of cost from the school.

The school runs academic activities in eight programmes including early childhood special education programme, cerebral palsy, autism spectrum disorder, intellectually handicapped-1 and 2, vocational training – boy, vocational training – girl and primary. Bashundhara Group Director Yeasha Sobhan donated an air- conditioned bus for comfortable movement of the children, Students also get free medical treatment at Bashundhara Ad-Din Medical College Hospital.

Expressing gratitude to Bashundhara Group Chairman Ahmed Akbar Sobhan, the head of the school, Shaila Sharmin, said: “I have no word to express my thanks and gratitude to Director Yeasha Sobhan madam who has taken the uphill task of developing the special children as ‘capable citizens’.

“We sometimes get ashtonished by observing Madam’s deep love for the special children. We hope this humanitarian effort will get proper recognition nationally and globally,” she added.

Bashundhara Group chairman condoles death of Sahara Khatun

Bashundhara Group Chairman Ahmed Akbar Sobhan has expressed profound shock at the death of Awami League (AL) Presidium Member and former Home Minister Advocate Sahara Khatun MP, who passed away at Bumrungrad International Hospital in Bangkok, Thailand on Thursday night.

In a condolence message, Ahmed Akbar Sobhan said the country lost an honest and sincere politician. Her death is an irreparable loss to the country’s political arena. People will remember her contributions with due respect for long.

“I express my deep sympathy to the members of the bereaved family and pray to the Almighty Allah to give them strength to bear this irreparable loss and for the salvation of the departed soul,” he added.
Sahara Khatun passed away at 11:25pm (local time) at Bumrungrad International Hospital in Bangkok.

Earlier on Monday, Advocate Sahara Khatun was flown to Thailand for better treatment.

The lawmaker of Dhaka-18 constituency was released from Dhaka’s United Hospital around 11:20 in the morning on the same day.

On June 2, she had been admitted to United Hospital in the capital’s Gulshan area with allergy, fever and cold-related complications. Later she was shifted to the ICU on June 19 as her condition deteriorated.

Advocate Sahara Khatun was elected as lawmaker three times from Dhaka-18 constituency.

Bashundhara Group Chairman mourns Abdul Monem Group’s founder death

Bashundhara Group Chairman Ahmed Akbar Sobhan expressed his profound shock at the sad demise of Abdul Monem Group’s founder Abdul Monem Khan.

In a condolence message, he also prayed for salvation of the departed soul and expressed deep sympathy to the bereaved members of his family.
Abdul Monem breathed his last while undergoing treatment at at Combined Military Hospital (CMH) in Dhaka on Sunday noon.

A veteran civil engineer by profession Abdul Monem masterminded the AML Business, its expansion and growth horizontal integration and diversification.

For his achievement in this respect, he was awarded ‘Commercially Important Person (CIP)’ status by the Government of Bangladesh several times.

নৌবাহিনীকে মাস্ক, পিপিই ও খাদ্যসামগ্রী দিলো বসুন্ধরা গ্রুপ

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় প্রথম থেকেই দেশ ও মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপ। এর অংশ হিসেবে রোববার (৫ এপ্রিল) নৌবাহিনীকে পিপিই, মাস্ক ও খাদ্যসামগ্রী প্রদান করেছে দেশের এ শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী।

রোববার সকাল ১১টার দিকে নৌবাহিনীর সদর দপ্তরে নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল আওরঙ্গজেব চৌধুরীর কাছে ৫০ হাজার মাস্ক, ৫০০ পিপিই ও দুই ট্রাক (৭০০ প্যাকেট) খাদ্যসামগ্রী হস্তান্তর করেন বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীর ও গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাফওয়ান সোবহান তাসভীর।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার সামরিক চিকিৎসা সার্ভিস মহাপরিদপ্তরকে এক হাজার পিপিই ও ৫০ হাজার মাস্ক দেয় বসুন্ধরা গ্রুপ। এছাড়া, গতকাল শনিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্র্যাফিক (উত্তর) বিভাগকে ২৫ হাজার মাস্ক দেয় প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে, গত ২৯ মার্চ বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর প্রধানমন্ত্রীর করোনা মোকাবেলার তহবিলে ১০ কোটি টাকার চেক হস্তান্তর করেন। বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে রাজধানীর দুঃস্থ ও নিম্ন আয়ের অনেক পরিবারকে খাদ্য সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।

অপরদিকে, করোনাভাইরাসের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারকে সহায়তার অংশ হিসেবে পাঁচ হাজার শয্যার হাসপাতাল তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপ। এতে রাজধানীর কুড়িলে বসুন্ধরার চারটি কনভেনশন সিটি ও একটি ট্রেড সেন্টারকে হাসপাতালে রূপান্তর করা হবে।

Bashundhara Group provides 50,000 masks, 500 PPE, foods to Bangladesh Navy

Bashundhara Group, leading business conglomerate of the country, on Sunday provided safety equipment and food to Bangladesh Navy as a part of their contributions to the Government’s ongoing battle on corona situation.

Bashundhara Group Managing Director Sayem Sobhan Anvir and Vice Chairman Safwan Sobhan Tasvir jointly handed over the medical supplies and food to Chief of Naval Staff Admiral Aurangzeb Chowdhury at Naval Headquarters in the capital on Sunday morning.

The medical supplies include 50,000 masks, 500 Personal Protective Equipment (PPE) and seven hundred packets of food.
Earlier on Saturday, Bashundhara provided 25,000 facial masks to Dhaka Metropolitan Police for safety of its members, who are playing frontline role to combat novel corona virus outbreak.

On Wednesday, the group handed over 1,000 PPE and 50,000 masks to the Directorate General of Medical Service (DGMS).

Bashundhara Group also donated Tk 100 million to the Prime Minister’s Relief Fund. Besides, the business conglomerate is going to establish a 5,000-bed hospital for the treatment of corona infected patients in the country.

The Group is also distributing essential commodities everyday to the people, who are living from hand to mouth, in Dhaka.

নৌবাহিনীকে অর্ধলক্ষ মাস্ক, ৫ শ পিপিই ও ৭ শ প্যাকেট খাবার দিল বসুন্ধরা

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় নৌবাহিনীর কাছে সুরক্ষা সামগ্রী ও খাদ্যপণ্য হস্তান্তর করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপ।

আজ সকালে রাজধানীর নৌবাহিনীর সদর দপ্তরে ৫০ হাজার পিস মাস্ক, ৫০০ পিস পিপিই এবং ৭০০ প্যাকেট খাদ্যপণ্য হস্তান্তর করেন বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর ও গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাফওয়ান সোবহান তাজভীর।

এসব পণ্য গ্রহণ করেন চিফ অব নেভাল স্টাফ অ্যাডমিরাল আওরঙ্গজেব চৌধুরী।

Bashundhara Group stands by the poor

Bashundhara Group, country’s leading business conglomerate, has continued to distribute food items among underprivileged people who have become workless following spread of coronavirus.

As part of corporate social responsibility, officials and volunteers of the group went door-to-door and distributed combo packets of food to 1,700 marginal families at different places in the capital on Tuesday. Collecting the food packets from Hall-1 of International Convention City Bashundhara (ICCB), officials and volunteers visited various targeted areas and distributed those among the vulnerable people.

A combo food pack contains 10 kilogrammes of minikate rice, two kilogrammes of lentil, half kilogramme of ginger, one litre of fresh soya bean oil, two kilogrammes of potato, two kilogrammes of onion and half kilogramme of garlic.
Among others, Bashundhara Group Senior Executive Detectors Imrul Hasan and Liakat Hossain, Executive Director Nazmul Alam Bhuiyan and ICCB Chief Executive MM Jasim Uddin were present during the distribution of food.

Officials went door-to-door and distributed the food items. They said the programme will be extended to other areas and will continue till the situation becomes normal.

Earlier on Sunday, Bashundhara Group distributed combo packets, includes daily essentials, to two thousand families in three areas of Beraid, Doomni and Solmaid in the capital.